বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সম্প্রতি বেশ কয়েকবার রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তর অতিক্রম করেছে। এ সময় ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয়। ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা এখনো অব্যাহত থাকলেও জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে তিন বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
সংস্থাটির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট স্বর্ণ ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ২৫৪ টন, যা তিন বছরের তুলনায় ধীরগতির।
ডব্লিউজিসির সিনিয়র অ্যানালিস্ট কৃষ্ণ গোপাল জানান, অক্টোবরে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৫৩ টন স্বর্ণ ক্রয় করেছে। তবে ক্রয় কার্যক্রম মূলত কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
কৃষ্ণ গোপাল বলেন, ‘স্বর্ণের ক্রয়ের এ প্রবণতার মূল কারণ হতে পারে ঊর্ধ্বমুখী বাজারদর।’
ডব্লিউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মে মাসের পর পুনরায় ক্রয় শুরু করেছে। অক্টোবরে ব্যাংকটি মোট ১৬ টন স্বর্ণ ক্রয় করে। অক্টোবরের শেষে ব্যাংকটির স্বর্ণের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৫৩১ টনে, যা মোট রিজার্ভের ২৬ শতাংশ।
সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ব্রাজিলও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ১৬ টন স্বর্ণ ক্রয় করেছে। এতে এ সময় ব্যাংকটির মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৬১ টন, যা মোট রিজার্ভের ৬ শতাংশ।
অক্টোবরে স্বর্ণের একমাত্র বিক্রেতা ছিল রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটি এ সময় তিন টন স্বর্ণ বিক্রি করে। ফলে মোট রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩২৭ টনে।
কৃষ্ণ গোপাল এ বিষয়ে বলেন, ‘স্বর্ণ ক্রয় এখনো মূলত উন্নয়নশীল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেন্দ্রীভূত।’
এদিকে সার্বিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০৩০ সালের মধ্যে স্বর্ণের রিজার্ভ কমপক্ষে ১০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে, যা বর্তমান ৫২ টনের দ্বিগুণ। সম্প্রতি কিয়োটোতে অনুষ্ঠিত লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্সে মাদাগাস্কার ও দক্ষিণ কোরিয়াও মূল্যবান ধাতুটির রিজার্ভ বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো প্রকাশ করেনি দেশগুলো।